থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে এক ভয়াবহ ও অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাঘের মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭২টি বাঘ মারা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মূলত খাঁচায় বন্দি বাঘগুলোই এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত প্রাণীদের বাঁচাতে এবং সুস্থদের সুরক্ষায় চিড়িয়াখানাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে কর্মীরা নিয়মিতভাবে বাঘের খাঁচাগুলোতে শক্তিশালী জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন এবং বেঁচে থাকা প্রাণীদের দ্রুত ভ্যাকসিনের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছেন।
তবে ঠিক কোন ভাইরাসের কারণে এত বিপুল সংখ্যক বাঘের মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনও কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। সরকারের আঞ্চলিক চিয়াং মাই প্রাণী দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই মৃত্যুর জন্য 'ক্যানাইন ডিসটেম্পার' ভাইরাসকে দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাণিবিদরা মৃত বাঘগুলোর শরীরে 'মাইকোপ্লাসমা'র উপস্থিতিও শনাক্ত করেছেন।
এদিকে থাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ বিভাগের মহাপরিচালক সোমচুয়ান রতনমুঙ্গলাকানন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তার মতে, মৃত বাঘগুলো মূলত 'ফেলিন পেনলিউকোপেনিয়া' ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। তিনি জানান, অসুস্থ বাঘগুলোকে একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যার ফলে মৃত্যুর হার কমানো যায়নি। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কুকুর বা বিড়ালের মতো পোষা প্রাণী মানুষের কাছাকাছি থাকে বলে তাদের অসুস্থতা দ্রুত নজরে আসে এবং তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা দেওয়া যায়। কিন্তু বন্য ও হিংস্র হওয়ায় বাঘের ক্ষেত্রে অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণগুলো বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। যখন একজন চিকিৎসক বা রক্ষী বাঘের শারীরিক সমস্যার কথা টের পান, ততক্ষণে প্রাণীটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে যায়।







