ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দীর্ঘ ১৬ বছর পর চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক দণ্ডপ্রাপ্তকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের তথ্যমতে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—শহিদুল ইসলাম, নিজাম, মনির হোসেন সেন্টু ও সাইফুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় প্রথম তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। আদালত পলাতক সাইফুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং কারাগারে থাকা অন্য তিন আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তাদের আগের হাজতবাস সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগী তরুণী তার এক বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদ এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে আসামিরা তাকে জোর করে একটি নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে তাকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হলেও পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
মামলাটি তদন্তের শুরুতে উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হয়ে উপ-পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার দায়িত্ব পান এবং তদন্ত শেষে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালত আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণ যাচাই করেন। যদিও আসামিপক্ষ একে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা বলে দাবি করেছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালত জরিমানার অর্থ আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আসামিদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ১৬ বছরের দীর্ঘ বিচারিক লড়াই শেষে এমন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।